১৪ই ফেব্রুয়ারি
শ ক্তি প দ চার
অশ্লীলতার কয়লা ঢেঁকে
রঙিন এই দিন।
নারীরা কিছু পেতে আজ
চরিত্র করে মলিন।
Handsome ছেলের some কথায়
পড়ছ তুমি ফাঁদে।
জ্যোৎস্না ভেবে হাঁটতে গিয়ে
হোঁচোট খাবে রাতে।
প্রেমের গান গাইতে
যখন রক্ত উঠবে মুখে।
স্বামীর কাছে এসব লুকিয়ে
থাকবে কেমন সুখে?
নারী তুমি অসাধারণ
হিরার চেয়েও দামী।
নারী তুমি নও সস্তা
পুরুষ শরীর কামি।
প র জী বি
শক্তিপদ চার
“নতুন মুখ”
দেখলাম কোই।
ভিন্য রঙের জামাটা শুধু,
দেহের উপর মানানসোই।
“মানুষের সেবা”
এখন প্রতি মুখে মুখে।
ওই মানুষের টাকা মেরে
থাকেন বহুত সুখে।
কারো-বা লাল,কারো-বা সবুজ
কারো-বা গেরুয়ার থাবা।
DNA পরীক্ষা করলে পরে
চোরই সবার বাবা।
কেউ লেখেন জোযোনা
কেউ লেখেন শ্রী।
লেখা খানা পড়ার সময়
দেখায় বেদম বিষ্রি।
ডিজিটাল পরজীবিরা
যারা পরের টাকায় বাঁচে।
কড়ায় গন্ডায় হিসেব দেবে
যে যার মারাংগুরুর কাছে।
আ মি বু ড়ো
——————-
শক্তিপদ চার
বুড়ো হাড়ে এতটা জোর
কী করে জানব বলো?
সন্ধ্যা তখনও হয়নি
মুক্ত আকাশ আলো।
ছেঁড়া স্যাণ্ডালে পায়ে চলি
পথ ছিল বেশ ফাঁকা।
এক কাপ চা’ খাবো
ছেলে দেয় না টাকা।
বুড়ো বলে শখ নেই
শ্মশান যাবার বেলায়।
তাই আমি রাস্তায় হাত পাতি
কেউ যদি করুণা জাগায়।।
বিভ্রান্তি
✍️শক্তিপদ চার
বিভ্রান্তির মাঝে বোঝানো এই মন।
চোখে পড়ে কাঁকড় ঘিরেছে চাল
মন তবু ছেড়ে দেয় হাল।
চাকর ঘুষ দেয় চাকরি পেতে
সত্য উদমাদ হয়ে মিথ্যায় মাতে।
অহিংসার উপর হিংসার তাণ্ডব
চালা ঘর থেকে কংক্রিটের মন্ডব।
কুকুরকে হাড্ডি দিয়ে, মাংস হয় সাবাড়
তাতেই সন্তুষ্টি ক্ষুদ্র এই মন আমার।
জীবনের প্রতিঞ্জাকে শকুনে ছিঁড়ে খায়
তাই জীবন আজ সাড়া দিতে ভুলে যায়।।
বাপু ও আমি
✍️শক্তিপদ চার
বাপু ও - বাপু-----
সকাল সকাল গেলাম বাপুর
বাড়ি।
বাপু বেরিয়ে এসে
বললেন-
লকডাউনে একি তোর আনাড়ি?
আমি বললাম ক্ষমা করো
মার্জনা কর আমার যত
ভুল।
আজ তোমার জন্মদিন
তাই নিয়ে এসেছি ফুল।
বাপু বললেন, যাইহোক
মনে করালি আমায়।
আমি তো ভুলেই গেছিলাম
তোদের এই জমানায়।
কি আর বলবো বাপু
সারা দুনিয়া হীমশিমেতে।
কোথা হতে এল এক জীবানু
সবার মন ওর পানেতে।
কেউ ভালো নেই বাপু
কেউ হারিয়েছে মা,কেউ
সন্তান।
সারা দুনিয়া ঘরে
বন্দি
বন্ধ বাজার, বন্ধ
দোকান।
ছল ছল চোখে বাপু বললে
আমিওবা আছি কোথায়
ভালো?
আমার দেখানো পথ
তোরা করেছিস কালো।
জন্মদিনেই পড়ে মনে
সারা বছর উপেক্ষিত।
অহংকারি মানব সভ্যতা
এক অদৃশ্য জীবের কাছেই
নত।
সারে জাঁহা সে আচ্ছা
✍️শক্তিপদ চার
পঁচ্চাত্তর বছর ধরে
জলন্ত চিতার উপরে
বসিয়ে রেখে আমায়।
প্রতিদিন প্রতিরাত
বারুদের ছিটা দেয়।
আমারি হাড়ের আঙরাতে,
দিনলিপি লেখা হয়।
শত শত শয়তান
মুখোশেতে ভগবান
বিলি করে নিজেদের
পর্চা।
দরদিয়া সভ্য বাবু
বেআব্রু ভাবে বলে
তবু
সারে জাঁহাসে আচ্ছা
।।
গর্জে ওঠা গণতন্ত্রের
তেরঙ্গা দিচ্ছে নিশান
লাল।
ভবিষ্যতের তরিতে আজ
ভেঙে গেছে দাঁড়-পাল।
যারা আস্তা কুঁড়ে
কাপড় খুঁজে
নুড়ি থেকে কুড়োয়
চাল।
ক্ষুধায় কাতর যারা
মাটি-ভিটে সর্ব হারা
ভেঙে গেছে যাদের অস্থি
মজ্জা।
শিড় দাঁড়া সোজা
করে
বলে তবু তেরঙ্গা ধরে
সারে জাঁহাসে আচ্ছা।
হ রে তোরা পান্ডব কঙ্ক
বাজারে বাজা ব্রতের
শঙ্খ
দেরে মোরে ভারত ফিরিয়ে।
শঙ্কিত মন স্নাত করে
চিতা ভস্মের তিলক
নিয়ে।
শত শহীদের স্মরণ করে
আপন মরনের রক্ত দিয়ে
লিখরে তোরা
ভররে খোরা
শয়তানদের কর সাচ্চা।
তবেই সব
উঠাবি রব
সারে জাঁহাসে আচ্ছা।
নষ্ট রাখীর কষ্ট
✍️শক্তিপদ চার
হে ঈশ্বর তুমি আমায়
সঞ্জয়ের মতো দিব্য চক্ষু দাও।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ
দেখবো না আমি।
দেখবো প্রতিটা মানুষের
অন্তরটি।
যেখানে মন নামক অদৃশ্য
বৃহৎ অঙ্গটি বাস করে।
ধৃতরাষ্ট্রকে নয়
শোনাবো আমার ক্লান্ত
মনকে।
যে মন আঘাত পেতে পেতে
আজ শির্ণ,জরাজির্ণ।
তোমার দয়ায় যদি
মন নামক যন্তরটা দেখতে পেতাম।
তাহলে হয়তো ওটাকেই
অপারেশন করার উপক্রম হত।
আমি বুঝতে পারি
--
আমার মন নামক যন্রটি
তোর জন্যে
মশামারার ব্যাটের
মতো জালি জালি হয়ে গেছে।
মাঝে মাঝে ছ্যাঁকাও
দেয় বটে।
নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে
একাই রয়ে গেলাম।
পেছন থেকে একবারের
জন্য ডাকলি না।
শুনলিও না তুই ধ্রুপদী
ডাক।
মনের ভেতর এক রঙিন
পাখি কেঁদেই গেল।
আমার বুকের গেরস্থলি
তুই জ্বালিয়ে দিয়ে গেলি।
বললিও না একবার
--
"এই নে দাদা
শীতল কলস।"
না আমি মনে করবো না
তোকে
যা নেই তা নিয়ে বিলাপ
করবো না।
না পাওয়ার স্মৃতি
মনে করা মানে কষ্ট পাওয়া।
ভুলে যেতে চাই,সব
আজ ভুলে যেতে চাই।
কারণ মানুষের মন জটিল,নেই
সরলতার প্রকাশ।
মায়া রয়ে যাবে,
হয়তো রোইবে না।
মনে রাখিস মায়ার
মৃত্যু হলে
একই শহরে থেকে দেখা
হবে দুজনে।
হয়তো পাশ দিয়ে হেটে
যাবো তোর।
দেখেও তোকে দেখবো
না,
ভালোমন্দ জিজ্ঞেস
করবো না।
কেননা আমি স্নেহের
মায়াকে খুন করেছি।
এক কৃষকের মেয়ে
✍️ শক্তিপদ চার
পূর্বাঙ্গের এক কৃষকের
ঘরে
জীবন লিখে সূবর্ণ
অক্ষরে
কৃষকের খুদ-ভাত খেয়ে
পথ চলে এক কৃষকের
মেয়ে।
মেঠো পথে রোদ,বৃষ্টি
জলে
সব লানছনা ধুয়ে মুছে
ফেলে
ধীরে ধীরে চেতনার
কন্দরে
মোটের সাথে বই-খাতা
নিয়ে
পথ চলে এক কৃষকের
মেয়ে।
" ভিখারির মেয়ে
চাঁদ ধরার শখ খুব। "
তবু মেয়ে নির্বাক ,নিশ্চুপ।
ব্যাঙ্গ,তামাসা সব
জমা হয়ে থাক
জবাবটা কাজেতে দেওয়া
যাক।
যে ঘুরতো গ্রাম থেকে
গ্রামান্তরে
আজ সে দেশ হতে দেশান্তরে
।।
আমরা দখলদার
✍🏻শক্তিপদ চার
ব্যানারে শিশুদিবস
তবু শৈশব যায় ছুট।
এক মুঠো ভাত পেতে
কৈশরের রং লুট।
বই-খাতা দেখিনিতো
দিন কাটে প্লাস্টিক,ভাঙা
কাঁচে।
ঘুনধরা জীবনের অভ্যেসে
জীবন এক অজানা। আশঙ্কায়
বাঁচে।
গরমের তাপে না আছে
পাখা
না আছে শীতের লেপ।
তবু মোরা হাঁটি আগুনের
পথে
নেই কোনো আক্ষেপ।
আমরা স্বপ্ন দেখি
না,দেখি দুঃস্বপ্ন
কখন ছুটে আসে দূরন্ত
চাকা,
কখন হুকুম হয় জারি
"কর ফুটপাথ ফাঁকা।"
আমরা উচ্ছিষ্ট,অবশিষ্ট
সভ্যতার গা-ঘেঁষেও
আমরা অসভ্য
আমাদের হেঁসেল দেখা
সমাজদার
নিজেকে ভাবে সভ্য।
আমাদের জীবনের প্রতিটি
গল্প
কবিতায়,প্রচারে আনে
আলো।
ফুটপাথের মস্ত হেপারের
নীচে
তাও জীবনটা মোদের
কালো।
আমরা যখন ঘুমিয়ে
পড়ি
হাঁকান চৌকিদার।
আমরা নাকি বিশিষ্ট
আমরা দখলদার।
শুভ যাত্রা
✍️শক্তিপদ চার
যাত্রা তব শুভ
হোক, হে নবীন
এ যাত্রা যে বড়ই
কঠিন।
কভু না হয় যেন
পথে ছাড়া ছাড়ি
তোমাদের বন্ধন
কচি কচি মন
করনাকো হৃদয়হীন
যাত্রা তব শুভ
হোক হে নবীন।
পৃথিবীর অধিকারে বঞ্চিত যারা
করনাকো তাদের জীবন হারা।
অসত্যকে মেরে
সত্যের গড় প্রসাদ
তবেই তোমরা পাবে
অমৃতের স্বাদ
হিংসেকে কর বিলিন
যাত্রা তব শুভ
হোক, হে নবীন।
হে যুবক সাজো
সাজো সাজো –
ঘৃণায় দূরে সরে আছে
যারা আজো
তাদের মন উচ্চ
করি সকলে ধর হাত
যত লাজ অপমান
দূরে সরে থাক
একই মন্ত্রে গাহ
সবে বিরাম বিহীন
যাত্রা তব শুভ
হোক, হে নবীন।
এই ধরিত্রিরে
রয়েছে যত অসহায় সন্তান
সাহায্য করি দাও তাদের
নতুন প্রান
যত দুঃখ,ব্যাথা,কষ্ট
ঘটাও অবসান
এক হও সকলে
হিন্দু মুসলমান
যত হোক তব পথ
দিশাহীন
যাত্রা তব শুভ
হোক, হে নবীন।
প্রেমএর কবিতা
✍️শক্তিপদ চার
মন কারোর একার
নয়
মুখ না ফুটিলেও
মন চায়
চোখ বুজিলেও
দেখিতে পায়
কখোনো বা মুখ
ফেরায়
কিন্তু বন্ধন না
ছিঁড়ায়
ভালোবাসা ভালোবাসে
যারে
সে খুঁজিয়া পায়
তার প্রেম টারে
এক আসার
প্রতিক্ষায় আর এক আসা
জীবনের আর এক নাম
ভালোবাসা
একুশে
✍️শক্তিপদ চার
আজ তোমার খুব প্রয়োজন
তোমার হাসিতে হাসতে শিখেছিতো
তোমার কর্মে দিক্ষীত আমি
তুমি ক্ষুদিরাম বোস।

তার জীবনের ছেঁড়া পাতাগুলি
নিয়ে?
Comments
Post a Comment