অজয়কুমার ঘোষ
জন্ম:- ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ - মৃত্যু:- ১৩ জানুয়ারি ১৯৬২
অজয় ঘোষ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন বাঙালি বিপ্লবী ছিলেন। তিনি ছিলেন শহীদ ভগৎ সিং এর অন্যতম সহযোগী। পরবর্তীতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একজন পলিটব্যুরো সদস্য ও অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন।হিন্দুস্থান সোশালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন এর সক্রিয় সদস্য ও ১৯২৮ সালে ভগৎ সিং, শুখদেব ও রাজগুরুর সঙ্গে জেলে যান। তাকে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী হয়ে বন্দি জিবন কাটাতে হয়।
বিপ্লবী অজয়কুমার ঘোষের জন্ম হয়েছিল ২০ ই ফেব্রয়ারি ১৯০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়। আমরা অনেকেই জানি অজয় নামে একটি নদী আছে। তারই নাম ধরে পিতা ছেলের নাম রাখেন অজয়। তার পিতার নাম ছিল শচীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি কানপুরের একজন চিকিৎসক ছিলেন, অজয়কুমার ঘোষের ছোটবেলা অতিবাহিত হয় সেখানেই। তার মায়ের নাম ছিল সুধানশুবালা দেবী। অজয়কুমার ঘোষ প্রায় চার ভাই বোন ছিলেন। তার প্রথম শিক্ষা হয় কানপুরে ও পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সন ১৯২৬ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই তার ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত প্রমুখের সাথে যোগাযোগ হয়। তারপর তিনি হিন্দুস্থান সোশালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন এর সক্রিয় সদস্য হন। রসায়ন শাস্ত্রে এম এস সি পড়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল। ১৯২৮ সালে তিনি ও বিপ্লবী ভগৎ সিং, ফণী ঘোষ সহ হিন্দুস্থান সোশালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৮ সালেই স্যান্ডার্স হত্যা ও ১৯২৯ সালে দিল্লির এসেম্বলি বোমা নিক্ষেপ।
এরপর দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ভগৎ সিং ও অন্যান্য সঙ্গীদের বিচার শুরু হয়। এই মামলায় তিনিও অভিযুক্ত হন। তারপর তিনি প্রমাণাভাবে মুক্তি পান এরপর মানবেন্দ্রনাথ রায়ের সাথেও কাজ করেছেন অজয় ঘোষ। বিচার চলাকালীন বন্দি থাকায় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৩১ সালে করাচিতে কংগ্রেস এ সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে বছরেই আবারো গ্রেপ্তার করা হয় তাকে ও ১৯৩৩ সালে তিনি মুক্তি পান।
সন ১৯৩৪ সালে অজয় ঘোষ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ১৯৩৬ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য হন। তারপর ১৯৩৮ সালে দলের মুখপত্র ন্যাশনাল ফ্রন্টের সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। আদিবাসী সমস্যা, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন, লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা ইত্যাদি বিষয়ে বহু উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন তিনি। ১৯৫১ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমৃত্যু সেই পদে থাকেন।
অজয় ঘোষ ছিলেন পূর্ববর্তী নেতা বি টি রনদিভের পার্টী লাইনের কঠোর সমালোচক। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধ শুরু হলে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নেতা অজয় ভারতপন্থী অবস্থান নেন। দেউলি বন্দীনিবাসে থাকাকালীন যক্ষা রোগে আক্রান্ত হন অজয় ঘোষ। জওহরলাল নেহ্রু ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের চেষ্টায় মুক্তি পান ও রাঁচিতে স্বাস্থ্য চিকিৎসা করতে যান। ১৩ ই জানুয়ারি, ১৯৬২ সালে তার মৃত্যু ঘটে।
(তথ্যসূত্র সংগৃহীত)
Prakash Roy Roy
Comments
Post a Comment