প্রায় দুবছরের বেশী হয়ে গেলো,সারা পৃথিবী জুড়ে এখনও করোণার দাপাদাপি চলছে;কখনো মৃত্যুর হার বাড়ছে,কখনো কমছে!আল্ফা,বিটা ,ডেল্টা,এখন ওমিক্রণ নানা ধরণের করোণা ভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
এর মধ্যে শিশুরা কি সংক্রমিত হচ্ছে না ? শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু শিশুদের মধ্যে বড়দের মত এই রোগটির বাড়াবাড়ির প্রকোপ খুবই কম।
বেশিরভাগেরই উপসর্গ থাকে না।হাল্কা জ্বর, কাশি যা নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়; সেরকম ওষুধ পত্র লাগে না।
কারণ?
এ.সি.ই2 রিসেপ্টর,যার মাধ্যমে এই ভাইরাসটি মানব শরীরে প্রবেশ করে,যা আমাদের নাকে,শ্বাসনালীতে প্রচুর পরিমাণে থাকে,তা শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই সামান্য পরিমাণে থাকে।তাই তা করোণার প্রবেশেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় ।এছাড়া ছোটরা বিসিজি টীকা,হামের টীকা নিয়ে থাকে;তার জন্য করোণার বিরুদ্ধেও তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।আরো কিছু কারণের জন্য শিশুদের মধ্যে এই রোগ মারাত্মক হয়না।
তবে কি শিশুদের গুরুতর করোণা রোগ হয়না?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী খুব কম শিশুদের মধ্যেই গুরুতর করোণা রোগ দেখা যায় ।মাল্টি ইনফ্লামেটরি সিস্টেমিক ডিজিজ ইন চিল্ড্রেন (Multi Inflammatory Systemic Disease in Children) -এইটি করোণার গুরুতর ধরণ। শিশুর বেশী মাত্রার বা বেশ ক -দিনের জ্বর , মাথা ব্যথা,শ্বাসকষ্ট,মুখ চোখ ফোলা,লাল ভাব,ডায়েরিয়া ইত্যাদি এই গুরুতর রোগের লক্ষণ । সঠিক সময়ে হসপিটালে ভর্তি করে চিকিত্সা করলে শিশু সেরে ওঠে । মৃত্যুর হার কম।বড়দের যেমন ডায়াবেটিজ বা অন্যান্য রোগ থাকলে করোণা বাড়াবাড়ি রূপ ধারণ করে,শিশুদের ক্ষেত্রেও হার্টের অসুখ বা অন্য কোনো রোগ থাকলে করোণা গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে ।
শেষে বলি এই সময়ে শিশুরা যত না করোণা রোগে কাবু হয়েছে,তার থেকে অনেক বেশী তারা মানসিক রোগে ভুগছে । স্কুল বন্ধ,বাইরে যাওয়ায় নিষেধ ,খেলাধুলা,সামাজিক মেলামেশা বন্ধ-এগুলি তাদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।এছাড়া অনেক শিশু তাদের বাবা,মা কে এইসময় হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়েছে ।
কবে যে এই মহামারীর অবসান হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু হবে- সেদিকেই সবাই তাকিয়ে।
Comments
Post a Comment