পুলিশ স্টেশনে প্রায় ১৫ জন মতো মহিলা যৌন ব্যাবসায়ী কে লকাপে রাখা হয়েছে। ওর মধ্যে অনেকেই অনেক কথা বলছে। কেউ কেউ আবার সম্রাট কে লোভ দেখাচ্ছে যে যদি ছেড়ে দেয় তো ফাস্ট সার্ভিস ফ্রী করে দেব। এরকম বেশ কিছু কথা ভেসে আসে সম্রাটের কানে। 

  সম্রাট উঠে গিয়ে লকাপের তালা খুলে ভিতরে ঢোকে ওদের সাথে কথা বলার জন্য।

সম্রাট ভিতরে আসতেই সবাই দূরে সরে যায়। কনস্টেবল একটা চেয়ার দিয়ে যায়, সম্রাট তাতে বসে সবাই কে বেশ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। 

এদিকে বাইরে বেশ কিছু উকিল এসেছে তাদের নিজেদের ক্লায়েন্ট দের নিয়ে যাবার জন্য। আর তারাও বেশ কিছু মেয়েদের বের করে নিয়েও যায়। 

এখন লকাপে ৫ টি মেয়ে অবশিষ্ট আছে। আর তাদের সবার  বয়স প্রায় ১৮/২২ এর মধ্যে। তাদের কেউ ছাড়িয়ে নিয়ে যায় নি। হয়তো তাদের মাথায় তেমন কোনো ক্ষমতাবান লোকের হাত নেই তাই। 

সম্রাট একে একে সবার নাম জানতে চায়। আর বলে,------ তোমরা তো বেশ ছোট তো এখানে কিভাবে এলে? আর কেমন ভাবে? এটা ছাড়া কি অন্য কোনো কাজ ছিল না , বেঁচে থাকার জন্য।

কে দেবে ভালো কোনো কাজ?

কথাটা শুনতেই সম্রাট মুখ ঘুরিয়ে দেখে যে দূরে একটি মেয়ে , দামি কাপড় পড়া আর মুখে পান চিবাতে চিবাতে কথা গুলো বলে। 

সম্রাট তার দিকে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়।

মেয়েটি ওর দিকে তাকিয়ে ভ্রু-নচিয়ে  বলে ,----আপনি দেবেন নাকি ভালো কাজ। 

কেন তোমরা চাইলে কী সৎ পথে থেকে কোনো কাজ করতে পারো না।

সম্রাট মেয়েটির দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে। 

ঠিকানা টা দিন তাহলে? মেয়েটি হাত টা বাড়িয়ে দেয় সম্রাটের দিকে। 

সম্রাট অবাক হয়ে যায়, আর বলে,--- কিসের ঠিকানা?

ঐ যে আপনি বললেন সৎ পথে নাকি ..... তার ঠিকানা। 

বলেই মেয়েটি সম্রাটের কাজ থেকে সরে অন্য দিকে গিয়ে বসে। 

এই আপনাদের মত লোকদের জন্যই আমাদের জন্ম হয়।  আপনাদের মত ভদ্র লোকরাই অসহায় মেয়েদের সুযোগ নেয়। তাদের শরীরের খিদে মেটাবার জন্য। আর আমরা পেটের খিদে মেটাবার জন্য এই সব করে থাকি। 

স্যার কেউ জন্ম থেকে এরকম হয় না। এই সমাজের ক্ষুধার্ত মানুষ গুলোর জন্যই একটা নিষ্পাপ মেয়ে এখানে এসে পড়ে। কেউ আমরা শখে করি না একাজ। পেটের জ্বালায় করি। আমার দুটো ছোট ভাই বোন আছে তাদের মুখে দুটো খাবার তুলে দেবার জন্য করি একাজ। 


Comments

Popular posts from this blog

কমলা ভট্টাচার্যঃ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথম শহীদ মহিলা কমলা ভট্টাচার্য