অনেক উৎকণ্ঠা নিয়ে লেবার রুমের বাইরে বারান্দায় পায়চারি করছিলেন সরদার আজাদ। শিশুর কান্না শুনে অনেক উৎফুল্ল হলেন ।বিয়ের পাঁচ বছর পরে ওদের প্রথম সন্তান। বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত থাকায় মা আসতে পারেন নি হাসপাতালে। মোবাইল ফোন বের করে কল করতে গিয়েও থেমে গেলেন।
নবজাতকের ছবি পাঠিয়ে কথা বললেন। অপেক্ষা করছেন লেবার রুমের ভেতর থেকে ডাক্তার বা সেবিকার আগমনের।
তখনই লেবার রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন ডাক্তার জেসমিন। আজাদের সামনে এসে শুকনো মুখে বললেন, সাকসেসফুল সিজার। মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ আছে।
সরদার আজাদ আনন্দিত চিত্তে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! ছেলে না মেয়ে তা বলেন নি ডক্টর।
এখানেই সমস্যা! জটিল সমস্যা!
বুঝলাম না। খুলে বলুন, প্লিজ!
ট্রান্সজেন্ডার!
ট্রান্সজেন্ড..
বুঝতে পেরে থেমে গেলেন সরদার আজাদ। এ কেমন বিপদ? ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন কিছু করা যায় না ডক্টর?
ডাক্তার জেসমিন বললেন, কী করতে বলেন?
অপারেশন করে ছেলে বা মেয়ে করা।
শিশুটা জাস্ট জন্ম নিয়েছে। ওর ভেতরে কোন্ জেন্ডারের হরমোন প্রকট তা এখন নির্ধারণ করা সম্ভব না।
কখন বুঝা যাবে?
দশ বারো বছর হবার পরে।
এ-তো বছর! মান-সম্মান সব গেলো এবার!
ডাক্তার জেসমিন কিছু বললেন না।
সরদার আজাদ বললেন, আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারবো ডক্টর? আর্জেন্ট!
এখানে না। কেবিনে শিফ্ট করার পরে কথা বলতে পারবেন। তবে বেশি কথা বলা ঠিক হবে না।
মা ও শিশুকে কেবিনে স্থানান্তর করার পরে সরদার আজাদ ঢুকলেন কেবিনে। মনে মনে বলছেন: কার পাপে এমনটা হলো? বেডের পাশে একটু দূরে নবজাতক দোলনায় ঘুমুচ্ছে। এখন কেবিনে সেবিকা বা অন্য কেউ নেই। সরদার আজাদ আড়চোখে দোলনাটা একবার দেখে বেডের কাছে এসে জোহরার দিকে তাকালে জোহরা হাসলেন।
চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসলে জোহরা স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, বাচ্চা কেমন হয়েছে আজাদ? ছেলে না মেয়ে?
সরদার আজাদ ম্লানমুখে বললেন, একটা সমস্যা হয়েছে জোহরা!
সাথে সাথে জোহরার মুখের হাসি মুছে গেলো। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, কী সমস্যা?
শিশুটি ট্রান্সজেন্ডার!
কী বলছো!
হাঁ।
জোহরা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, এই শিশু আমি চাই না! ওকে কাউকে দিয়ে দাও, অথবা ফেলে দাও ডাস্টবিনে!
Comments
Post a Comment