#গুরুমা # ✍পূবালি রায় (পিংকি ) "যারা শুধু মরে কিন্তু নাহি দেয় প্রাণ কেহ কভু তাদের করেনি সম্মান।" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - বাইশ বছর আগে যখন আমি নবম শ্রেণিতে, তখন স্কুলে আমাদের গুরুমার মুখ থেকেই প্রথম শুনে ছিলাম এই কথাগুলো এবং তা অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম তাঁরই শিক্ষায়। স্কুল জীবনে আমার গুরুমা প্রীতি মুখার্জীকে শিক্ষিকা রূপে পেয়েছিলাম এমনই এক বসন্তের দিনে। তিনি আমাদের বাংলা ও ইতিহাস পড়াতেন। তাঁর পড়ানোর মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণ। মাত্র দুটি বছর তার সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তারপর আমি সেই স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে চলে যাই অন্য উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে। কিন্তু ওই দুটি বছরের পর আমার জীবনে একটা বিরাট পরিবর্তন দেখা দিল, ওঁর শেখানো জীবন দর্শনের নিরিখে। আজ আমি একজন শিক্ষিকা। আমার সন্তানসম ছাত্রছাত্রীদের তাঁর গল্প বলি। তিনি স্বমহিমায় আমার মতো অজস্র ছাত্রীদের মণি কোঠায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র রূপে বিরাজমান। ...
Posts
- Get link
- X
- Other Apps
অনেক উৎকণ্ঠা নিয়ে লেবার রুমের বাইরে বারান্দায় পায়চারি করছিলেন সরদার আজাদ। শিশুর কান্না শুনে অনেক উৎফুল্ল হলেন ।বিয়ের পাঁচ বছর পরে ওদের প্রথম সন্তান। বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত থাকায় মা আসতে পারেন নি হাসপাতালে। মোবাইল ফোন বের করে কল করতে গিয়েও থেমে গেলেন। নবজাতকের ছবি পাঠিয়ে কথা বললেন। অপেক্ষা করছেন লেবার রুমের ভেতর থেকে ডাক্তার বা সেবিকার আগমনের। তখনই লেবার রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন ডাক্তার জেসমিন। আজাদের সামনে এসে শুকনো মুখে বললেন, সাকসেসফুল সিজার। মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ আছে। সরদার আজাদ আনন্দিত চিত্তে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! ছেলে না মেয়ে তা বলেন নি ডক্টর। এখানেই সমস্যা! জটিল সমস্যা! বুঝলাম না। খুলে বলুন, প্লিজ! ট্রান্সজেন্ডার! ট্রান্সজেন্ড.. বুঝতে পেরে থেমে গেলেন সরদার আজাদ। এ কেমন বিপদ? ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন কিছু করা যায় না ডক্টর? ডাক্তার জেসমিন বললেন, কী করতে বলেন? অপারেশন করে ছেলে বা মেয়ে করা। শিশুটা জাস্ট জন্ম নিয়েছে। ওর ভেতরে কোন্ জেন্ডারের হরমোন প্রকট তা এখন নির্ধারণ করা সম্ভব না। কখন বুঝা যাবে? দশ বারো বছর হবার পরে। এ-তো বছর! মান-সম্মান সব গেল...
কমলা ভট্টাচার্যঃ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথম শহীদ মহিলা কমলা ভট্টাচার্য
- Get link
- X
- Other Apps
কমলা ভট্টাচার্যঃ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথম শহীদ মহিলা কমলা ভট্টাচার্য জন্ম ১৯৪৫ সিলেট (শ্রীহট্ট), অসম, ব্রিটিশ ভারত মৃত্যু ১৯ মে, ১৯৬১ (১৬ বছর) শিলচর, অসম, ভারত শিলচরে কমলারা থাকতেন শিলচর পাবলিক স্কুল রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে। কমলার বড় দিদি বেণু নার্সের চাকরি পেয়ে শিমূলগুড়ি চলে যান প্রশিক্ষণ নিতে। কমলার মেজ দিদি প্রতিভা ছিলেন শিক্ষিকা। কমলার পরিবার তার মেজদিদির আয়ের উপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল। শৈশবে কমলা ভর্তি হন শিলচরের ছোটেলাল শেঠ ইন্ষ্টিটিউটে। কিন্তু স্কুলের পাঠ্য পুস্তক কেনার ক্ষমতা ছিল না কমলার। কমলা একবার বড়দিদি বেণুকে একটি অভিধান কিনে দিতে বললে তিনি সেটা কিনে দিতে পারেননি। কমলা তার সহপাঠীদের কাছ থেকে পাঠ্যপুস্তক ধার করে তার বিষয়বস্তু খাতায় টুকে নিতেন। ১৯৬১ সালে কমলা ম্যাট্রিক পরিক্ষায় বসেন। তার ইচ্ছা ছিল পারিবারিক আর্থিক অনটন সত্ত্বেও তিনি স্নাতকস্তর পর্যন্ত পড়বেন। ম্যাট্রিকের পর তিনি টাইপরাইটিং শিখবেন বলে মনস্থির করেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিন শিলচর রেল স্টেশনে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার দাবীতে একটি পিকেটিংএর ডাক দেওয়া হয়। সেদিন সকালে, অর্...
- Get link
- X
- Other Apps
খ্যাশ - খ্যা---শ -শ ভোঁতা একটা যান্ত্রিক আওয়াজ তুলে রেডলাইনের L ট্রেনটা ইস্পাতের লাইনের উপর দিয়ে বেঢপ সরীসৃপের মতো পেছল দ্রুততার সঙ্গে বেরিয়ে গেল। “ L”মানে শিকাগো ট্রানজিট অথরিটির মেট্রো ট্রেনটা। L শব্দটা আদতে “এলিভেটেডে”র আদুরে ডাকনাম। নামে মেট্রো হলেও এই রেললাইনের খুব কমটাই মাটির নিচে। বাকি পুরো অংশটাই সারসার উঁচু স্তম্ভের উপর দিয়ে আঁকাবাঁকা বিলি কেটে চলেছে শহরের বুক ফালাফালা করে। ব্যতিক্রমী এই রুজভেল্টের মতো খান দুয়েক স্টেশন। আমেরিকার ২৫ তম প্রেসিডেন্ট 'থিওডোর রুজভেল্ট' ক্ষমতায় থাকাকালীন আদতে আমেরিকার কোন উন্নতি সাধন করেছিলেন কিনা সেটা বিতর্ক সাপেক্ষ হলেও, শিকাগোর প্রাণকেন্দ্রে তার নামের স্টেশনখানা কিন্তু বেশ জবরদস্ত। CTA র রেড, গ্রীন আর অরেঞ্জ তিন রকমের ট্রেন লাইন এখানে এসে মেলে। সারাদিনে খুব কম করে কয়েকলাখ মানুষ আর হাজার দুয়েক ট্রেন এই স্টেশন ছুঁয়ে রংবেরঙের ফিতের মতো শিকাগোর উপর দিয়ে চাইনিজ রিবন ডান্স করে চলে দিনভর। এখন ট্রেন চলে যাবার পর আদুড় ট্র্যাকের গা ঘেঁসে হলুদরঙা লাইন বরাবর দেশভাগের কাঁটাতারের মতো নিষেধের ভ্রুকুটি। তারই...
- Get link
- X
- Other Apps
মহেন্দ্রনাথ রায় জন্ম:- ? - মৃত্যু:- ১৯৩০ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আমরা অনেক বিপ্লবীর নাম এখনো পর্যন্ত ভালো করে জানি না। যাদের বলিদানে মুক্তি পেয়েছে এই মাতৃভূমি। মহেন্দ্রনাথ রায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী শহীদ। মহেন্দ্রনাথ রায়-এর বিষয়ে বিশেষ কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রথমে জিবনে তিনি বিদ্যালয়ের ব্যায়াম শিক্ষক ছিলেন। মহেন্দ্রনাথ রায় বিপ্লবী দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি মেছুয়াবাজার বোমার মামলায় যুক্ত ছিলেন এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মেছুয়াবাজার বোমার মামলায় মহেন্দ্রনাথ রায়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিচারে কয়েক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। কিন্তু মহেন্দ্রনাথ রায় পরে আপিলে মুক্তি পান। মহেন্দ্রনাথ রায় ১৯৩০ সালে আবার ধরা পড়ে যান। ধরা পড়ার পর মহেন্দ্রনাথ রায়কে রাজস্থানের দেউলি বন্দী-শিবিরে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশ তার ওপর অকথ্য অত্যাচার ...
- Get link
- X
- Other Apps
দুপুর থেকেই আকাশের মুখটা ভার করে আছে। এখন বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টে। মেঘলা ঠাঁই বসে আছে জানালার পাশে সেই কখন থেকে। কোনো এক মেঘলা দিনে জন্ম হয়েছিল বলে বাবা ওর নাম রেখেছিল " মেঘলা "। যাই হোক সে আজ বাড়িতে একা। ওর বাবার অফিসের পিকনিক, সবারই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে যেতে চায় নি কারণ আজ একটা বিশেষ দিন, আর সেই বিশেষ খবরটা পেয়েছে সে আজ সকালেই। তারপর থেকেই কেমন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাইরেটা থমথমে হলেও প্রচন্ড ঝড় উঠেছে তার মনের ভেতর। আর তার সাক্ষী হিসেবে ফোঁটা ফোঁটা করে জল পড়ে চলেছে অনবরত তার চোখ থেকে। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না দীপ তাকে এভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারে। দীপ্যমান চৌধুরী ওরফে দীপ, একটা মাল্টি সেক্টরে কর্মরত। পরিচয়টা হয়েছিল নেহাতই অনাদরে, এক পরিচিত বন্ধুর সূত্র ধরে। তারপর টুকটাক কথা বলা শুরু। এভাবে কথা বলতে বলতে কখন যে মেঘ মনের অজান্তে দীপকে ভালবেসে ফেলেছে ঘুণাক্ষরেও তের পায় নি। যখন বুঝলো তখন নিজের সর্বনাশ করেই ফেলেছে সে। এসব ভাবতে ভাবতে নিজের একটু হাসি পেলো। মনে পড়তে লাগলো তার সেই সব মুহূর্তগুলোর কথা। মেঘলাকে মেঘ বলে ডাকার অধিকা...
- Get link
- X
- Other Apps
ঘড়ির কাঁটা সকাল আটটার ঘর ছুঁই ছুঁই। শিশির সিক্ত ঘাস- পাতা সূর্যের কিরণে হীরার ন্যায় ঝকঝক করে উঠছে। শীতের উষ্ণতা ভেঙে নীড় ছাড়া হওয়ার পাল্লা পাখিদের। খোকা খুকুরা নীল সাদা ড্রেসে ছুট দিচ্ছে স্কুলের পথে। তখনও ঘুমে বিভোর ছোটকু।গত রাত্রে বাবা নাকানিচোবানি দিয়েছে। বাজার থেকে সবজির ব্যাগটা নিয়ে বাড়ি আসছিল। তারপর কোন রাস্তার ধারে কোথায় যে ফেলে এসেছে তা আর বলতে পারেনা।এটার জন্যই বাবাকে এত শাসাতে হবে? ছোটকু তা মানতে নারাজ। তাই আধ প্লেট খাবার পেটে না ঢুকিয়েই গর্ গর্ করে উঠে আসে। ঠাস ঠাস শব্দে গেট লাগিয়ে শুয়ে পড়ে বিছানায়। মা অনেক অনুনয় বিনয় করলেন। কিন্তু ছেলেটা বোকা স্বভাবের হলেও বড্ড জেদী। মায়ের কথায় একটুও ভাবান্তর হলোনা তার ভিতরে। কোন দিন তাকে ঘুম থেকে জাগাতে হয়না। সকাল হলেই নিজে নিজেই উঠে হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসে। অতঃপর স্কুলে যাবার পালা। অথচ আজকে এখন অবধিও সে ঘুমিয়ে। পড়ালেখাও করল না। তবে মতলবটা কী? মা গিয়ে ডাকেন, কিরে ছোটকু .... আর কতকাল ঘুমাবি? শীঘ্রই ওঠ। ছোটকু ধরপরিয...