Posts

Showing posts from January, 2022
   খ্যাশ - খ্যা---শ -শ ভোঁতা একটা যান্ত্রিক আওয়াজ তুলে রেডলাইনের  L ট্রেনটা ইস্পাতের লাইনের উপর দিয়ে বেঢপ সরীসৃপের মতো পেছল দ্রুততার সঙ্গে বেরিয়ে গেল। “ L”মানে শিকাগো ট্রানজিট অথরিটির মেট্রো ট্রেনটা।  L শব্দটা আদতে  “এলিভেটেডে”র আদুরে ডাকনাম। নামে মেট্রো হলেও এই রেললাইনের খুব কমটাই মাটির নিচে। বাকি পুরো অংশটাই সারসার উঁচু স্তম্ভের উপর দিয়ে আঁকাবাঁকা বিলি কেটে চলেছে শহরের বুক ফালাফালা করে। ব্যতিক্রমী এই রুজভেল্টের মতো খান দুয়েক স্টেশন। আমেরিকার ২৫ তম প্রেসিডেন্ট 'থিওডোর রুজভেল্ট' ক্ষমতায় থাকাকালীন আদতে আমেরিকার কোন উন্নতি সাধন করেছিলেন কিনা সেটা বিতর্ক সাপেক্ষ হলেও, শিকাগোর প্রাণকেন্দ্রে তার নামের স্টেশনখানা কিন্তু বেশ জবরদস্ত। CTA র রেড, গ্রীন আর অরেঞ্জ তিন রকমের ট্রেন লাইন এখানে এসে মেলে। সারাদিনে খুব কম করে কয়েকলাখ মানুষ আর হাজার দুয়েক ট্রেন এই স্টেশন ছুঁয়ে রংবেরঙের ফিতের মতো শিকাগোর উপর দিয়ে চাইনিজ রিবন ডান্স করে চলে দিনভর।     এখন ট্রেন চলে যাবার পর আদুড় ট্র্যাকের গা ঘেঁসে  হলুদরঙা লাইন বরাবর দেশভাগের কাঁটাতারের মতো নিষেধের ভ্রুকুটি। তারই...
Image
  মহেন্দ্রনাথ রায়  জন্ম:- ? - মৃত্যু:- ১৯৩০                  স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আমরা অনেক বিপ্লবীর নাম এখনো পর্যন্ত ভালো করে জানি না। যাদের বলিদানে মুক্তি পেয়েছে এই মাতৃভূমি। মহেন্দ্রনাথ রায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী শহীদ। মহেন্দ্রনাথ রায়-এর বিষয়ে বিশেষ কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি।                   প্রথমে জিবনে তিনি বিদ্যালয়ের ব্যায়াম শিক্ষক ছিলেন। মহেন্দ্রনাথ রায় বিপ্লবী দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি মেছুয়াবাজার বোমার মামলায় যুক্ত ছিলেন এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মেছুয়াবাজার বোমার মামলায় মহেন্দ্রনাথ রায়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিচারে কয়েক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। কিন্তু মহেন্দ্রনাথ রায় পরে আপিলে মুক্তি পান।                  মহেন্দ্রনাথ রায় ১৯৩০ সালে আবার ধরা পড়ে যান। ধরা পড়ার পর মহেন্দ্রনাথ রায়কে রাজস্থানের দেউলি বন্দী-শিবিরে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশ তার ওপর অকথ্য অত্যাচার ...
         দুপুর থেকেই আকাশের মুখটা ভার করে আছে। এখন বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টে। মেঘলা ঠাঁই বসে আছে জানালার পাশে সেই কখন থেকে। কোনো এক মেঘলা দিনে জন্ম হয়েছিল বলে বাবা ওর নাম রেখেছিল " মেঘলা "। যাই হোক সে আজ বাড়িতে একা। ওর বাবার অফিসের পিকনিক, সবারই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে যেতে চায় নি কারণ আজ একটা বিশেষ দিন, আর সেই বিশেষ খবরটা পেয়েছে সে আজ সকালেই। তারপর থেকেই কেমন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাইরেটা থমথমে হলেও প্রচন্ড ঝড় উঠেছে তার মনের ভেতর। আর তার সাক্ষী হিসেবে ফোঁটা ফোঁটা করে জল পড়ে চলেছে অনবরত তার চোখ থেকে। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না দীপ তাকে এভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারে। দীপ্যমান চৌধুরী ওরফে দীপ, একটা মাল্টি সেক্টরে কর্মরত। পরিচয়টা হয়েছিল নেহাতই অনাদরে, এক পরিচিত বন্ধুর সূত্র ধরে। তারপর টুকটাক কথা বলা শুরু। এভাবে কথা বলতে বলতে কখন যে মেঘ মনের অজান্তে দীপকে ভালবেসে ফেলেছে ঘুণাক্ষরেও তের পায় নি। যখন বুঝলো তখন নিজের সর্বনাশ করেই ফেলেছে সে। এসব ভাবতে ভাবতে নিজের একটু হাসি পেলো। মনে পড়তে লাগলো তার সেই সব মুহূর্তগুলোর কথা। মেঘলাকে মেঘ বলে ডাকার অধিকা...
ঘড়ির কাঁটা সকাল আটটার ঘর ছুঁই ছুঁই। শিশির সিক্ত ঘাস- পাতা সূর্যের কিরণে হীরার ন্যায় ঝকঝক করে উঠছে। শীতের উষ্ণতা ভেঙে নীড় ছাড়া হওয়ার পাল্লা পাখিদের। খোকা খুকুরা নীল সাদা ড্রেসে ছুট দিচ্ছে স্কুলের পথে।        তখনও ঘুমে বিভোর ছোটকু।গত রাত্রে বাবা নাকানিচোবানি দিয়েছে। বাজার থেকে সবজির ব্যাগটা নিয়ে বাড়ি আসছিল। তারপর কোন রাস্তার ধারে কোথায় যে ফেলে এসেছে তা আর বলতে পারেনা।এটার জন্যই বাবাকে এত শাসাতে হবে? ছোটকু তা মানতে নারাজ। তাই আধ প্লেট খাবার পেটে না ঢুকিয়েই গর্ গর্ করে উঠে আসে। ঠাস ঠাস শব্দে গেট লাগিয়ে শুয়ে পড়ে বিছানায়। মা অনেক অনুনয় বিনয় করলেন। কিন্তু ছেলেটা বোকা স্বভাবের হলেও বড্ড জেদী। মায়ের কথায় একটুও ভাবান্তর হলোনা তার ভিতরে।        কোন দিন তাকে ঘুম থেকে জাগাতে হয়না। সকাল হলেই নিজে নিজেই উঠে হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসে। অতঃপর স্কুলে যাবার পালা। অথচ আজকে এখন অবধিও সে ঘুমিয়ে। পড়ালেখাও করল না। তবে মতলবটা কী?        মা গিয়ে ডাকেন, কিরে ছোটকু .... আর কতকাল ঘুমাবি? শীঘ্রই ওঠ।        ছোটকু ধরপরিয...
Image
  মীরা  দত্তগুপ্ত ( জন্ম:- ৫ অক্টোবর ১৯০৬ - মৃত্যু:- ১৮ জানুয়ারি ১৯৮৩ )                 ছাত্রবস্থায় বি.ভি নামের বিপ্লবী দলে যোগ দেন ব্রিটিশ বিরোধী অগ্নিকন্যা। 'বেণু' পত্রিকার মহিলা বিভাগের ভার ছিল ঠিক তারই ওপর। প্রায় সম্পূর্ণ কাজের দায়িত্বই ছিল তার ওপর। তার পর কিছুদিন তিনি দক্ষিণ কলকাতায় 'ছাত্রীসংঘের' সম্পাদিকাও ছিলেন। এরপরেও তিনি ছাত্র আন্দোলনের প্রকাশ্যে কাজ ত্যাগ করে, গুপ্ত বিপ্লবী দলের কাজে যোগ দেন।                 ১৯৩১ সালে দলের নির্দেশে তিনি বিদ্যাসাগর কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল পদে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় তার সমস্ত বেতন দলের কাজে লাগিয়ে দিতেন। শরৎকুমার দত্তগুপ্ত একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। এই শরৎকুমার দত্তগুপ্তের কন্যা হলেন মীরা দত্তগুপ্ত। মীরা, গুপ্ত বিপ্লবী দলের কাজে যোগ দেন। তার পিতা বড় সরকারি কর্মচারী ছিলেন বলেই, পুলিশ বিশ্বাস করতে পারেনি যে তাদের বাড়িতে বিপ্লবী দলের গোপন ঘাঁটি ছিল। ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সেই বাড়িতে বিপ্লবীদের গোপন ইস্তাহার, জরুরি কাগজপত্র অস্বাদি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ...
 কার ভালো লাগে বলুন তো স্যার, প্রতি রাতে একটা অনুভূতিহীন সহবাস করার জন্য। কিন্তু তাও আমাদের করতে হয়, পেটের জ্বালায়।  এতক্ষন কথাগুলো বলে মেয়েটি থামে।  সম্রাট এতক্ষন কথাগুলো শুনে মনে মনে বলে ,----ও যা বলছে সব ঠিক বলছে। একটাও মিথ্যে নয়। এদের তো ভদ্র সমাজ জন্ম দেয়। সম্রাট মেয়েটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,-----তোমার নাম কি?? কোথায় থাকো? কেন স্যার, আপনি আমার বাড়িতে যাবেন নাকি?একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে।  সম্রাট শান্ত ভাবে বলে,---- যা জানতে চাইছি সেটা বলো।  রাকা, আমার নাম বাড়ি বনগাঁও।  রোজ শহরে আসো তুমি? না রোজ না, যেদিন ভালো কাস্টমার পাই। তারাই আমাকে আসতে বলে। নয়তো আমি লোকালে করি। শালা আজ প্রথম এলাম আর আজ ফেঁসে গেলাম দূর, বাড়িতে ভাই বোন টা একা কি করবে কে জানে।  তোমার ভাই বোন পড়াশোনা করে? হ্যাঁ করে, ভাই 8 টে পরে, আর বোনটা এবার মাধ্যমিক দেবে, খুব ভালো পড়াশোনায় দুজনেই। ভাবুক হয়ে বলে রাকা।  আচ্ছা তোমার ভাই বোন যখন জানতে পারবে, যে তুমি কিভাবে রোজগার করছো তখন ওরা তোমাকে ক্ষমা করবে? তোমার কি মনে হয়। এই কথাটা বলেই  সম্রাট ওর দিকে তাকায়।  রাকা বলে,----ও...
পুলিশ স্টেশনে প্রায় ১৫ জন মতো মহিলা যৌন ব্যাবসায়ী কে লকাপে রাখা হয়েছে। ওর মধ্যে অনেকেই অনেক কথা বলছে। কেউ কেউ আবার সম্রাট কে লোভ দেখাচ্ছে যে যদি ছেড়ে দেয় তো ফাস্ট সার্ভিস ফ্রী করে দেব। এরকম বেশ কিছু কথা ভেসে আসে সম্রাটের কানে।    সম্রাট উঠে গিয়ে লকাপের তালা খুলে ভিতরে ঢোকে ওদের সাথে কথা বলার জন্য। সম্রাট ভিতরে আসতেই সবাই দূরে সরে যায়। কনস্টেবল একটা চেয়ার দিয়ে যায়, সম্রাট তাতে বসে সবাই কে বেশ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।  এদিকে বাইরে বেশ কিছু উকিল এসেছে তাদের নিজেদের ক্লায়েন্ট দের নিয়ে যাবার জন্য। আর তারাও বেশ কিছু মেয়েদের বের করে নিয়েও যায়।  এখন লকাপে ৫ টি মেয়ে অবশিষ্ট আছে। আর তাদের সবার  বয়স প্রায় ১৮/২২ এর মধ্যে। তাদের কেউ ছাড়িয়ে নিয়ে যায় নি। হয়তো তাদের মাথায় তেমন কোনো ক্ষমতাবান লোকের হাত নেই তাই।  সম্রাট একে একে সবার নাম জানতে চায়। আর বলে,------ তোমরা তো বেশ ছোট তো এখানে কিভাবে এলে? আর কেমন ভাবে? এটা ছাড়া কি অন্য কোনো কাজ ছিল না , বেঁচে থাকার জন্য। কে দেবে ভালো কোনো কাজ? কথাটা শুনতেই সম্রাট মুখ ঘুরিয়ে দেখে যে দূরে একটি মেয়ে , দামি কাপড় পড়া আর মুখে পান চ...
অনুবাদসাহিত্য (মহাকবি ভাসের স্বপ্নবাসবদত্তম নাটক থেকে অনূদিত)   পুরাকালে উদয়ন নামে বৎসরাজ্যে এক অতি বলশালী ওর বীর রাজা ছিল। তাঁর স্ত্রী ছিলেন অবন্তী রাজকন্যা বাসবদত্তা,তিনি ছিলেন অতীব সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী।তাঁকে নিয়ে সুখে কালাতিপাত করছিলেন বৎসরাজ উদয়ন,ইতিমধ্যে তাঁর শত্রু আরুনীকতৃক তাঁর রাজ্যের কিয়দংশ অধিকৃত হয়।তাঁর বিচক্ষণ মন্ত্রী ছিলেন যৌগন্ধরায়ন যিনি স্থির করেন মগধরাজকন্যা পদ্মাবতীর সঙ্গে প্রভুর বিবাহ হলে তাঁর শক্তিবৃদ্ধি হবে, ফলে তিনি বহিঃশত্রুর আক্রমণ রোধ করতে পারবেন,এবং দেবজ্ঞগণও এইরূপ উপদেশই দেন।কিন্তু রাজা উদয়ন তো বাসবদত্তা ছাড়া অন্যকাউকে স্ত্রী বলে স্বীকার করবেন না, অন্তত বাসবদত্তার জীবিত কালে নয়, তাই রানীকে আনুপূর্বিক সব পরিকল্পনা বলে এই বিবাহ ঘটাবার জন্য, রাজার অনুপস্থিতিতে মন্ত্রী রটিয়ে দেন অগ্নিদাহে তাঁর ও রানী বাসবদত্তার মৃত্যু হয়েছে, এবং রানীকে রাজকন্যা পদ্মাবতীর কাছে সখিরূপে গচ্ছিত রাখার জন্য নিয়ে চলেন , নিজের ভগিনী পরিচয় দিয়ে।... মন্ত্রী যৌগন্ধারায়ন ও রানী বাসবদত্তা দুজনে চলেছেন রাজকন্যা পদ্মাবতীর কাছে।এদিকে যাওয়ার পথে যখন পদ্মাবতী তপোবনে আসছিলেন,তখন তার ভৃত্যবর্গ সবা...
  প্রায় দুবছরের বেশী হয়ে গেলো,সারা পৃথিবী জুড়ে এখনও করোণার দাপাদাপি চলছে;কখনো মৃত্যুর হার বাড়ছে,কখনো কমছে!আল্ফা,বিটা ,ডেল্টা,এখন ওমিক্রণ নানা ধরণের করোণা  ভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এর মধ্যে শিশুরা কি সংক্রমিত হচ্ছে না ? শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু শিশুদের মধ্যে বড়দের মত এই রোগটির বাড়াবাড়ির প্রকোপ খুবই কম। বেশিরভাগেরই উপসর্গ থাকে না।হাল্কা জ্বর, কাশি যা নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়; সেরকম ওষুধ পত্র লাগে না। কারণ? এ.সি.ই2 রিসেপ্টর,যার মাধ্যমে এই ভাইরাসটি মানব শরীরে প্রবেশ করে,যা আমাদের নাকে,শ্বাসনালীতে প্রচুর পরিমাণে থাকে,তা শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই সামান্য পরিমাণে থাকে।তাই তা করোণার প্রবেশেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় ।এছাড়া ছোটরা বিসিজি টীকা,হামের টীকা নিয়ে থাকে;তার জন্য করোণার বিরুদ্ধেও তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।আরো কিছু  কারণের জন্য শিশুদের মধ্যে এই রোগ মারাত্মক হয়না। তবে কি শিশুদের গুরুতর করোণা  রোগ হয়না? পরিসংখ্যান অনুযায়ী খুব কম শিশুদের মধ্যেই গুরুতর করোণা রোগ দেখা যায় ।মাল্টি ইনফ্লামেটরি সিস্টেমিক  ডিজিজ ইন চিল্ড্রেন (Multi Inflammatory Systemic Dise...
Image
 সুনীতি চৌধুরী জন্ম:- ২২ মে ১৯১৭ - মৃত্যু:- ১২ জানুয়ারি ১৯৮৮                  দিনটি ছিল ১৪ ই ডিসেম্বর ১৯৩১ সাল দুই অগ্নিকন্যা বেরিয়ে পড়লেন একটি নতুন কাজের উদ্দ্যেশ্যে। এই দুই কন্যার নাম আমরা অনেকেই জানি, তারা হলেন সুনীতি চৌধুরী ও শান্তি ঘোষ। তাদের কাজ ছিল কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. স্টিভেন্সকে হত্যা করা। এবং এই মহান কাজে তারা সফল হয়েছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তার হতে হয় তাদের পুলিসের হাতে।                   তার পর আবার কি? শুরু হলো বিচারের পালা। বিচারে সুনীতি চৌধুরী ও শান্তি ঘোষকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজা দেওয়া হয়। কিন্তু এই দুই বীরাঙ্গনা তাদের সাজাকে হাসি মুখে বরণ করে নেয়। যদিও এই দুই কন্যাকে মেদিনীপুর জেলে তৃতীয় শ্রেণীর বন্দি হিসেবে রাখা হয়। এদিকে তার পিতার সরকারি পেনশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।                  সুনীতি চৌধুরীর পুরো পরিবারকে নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অন্যদিকে তার দুই মেজদাদার জেল হয়ে যায়। তার ছোটভাই অনাহারে...
Image
  মনীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্ম:- ১৩ জানুয়ারি ১৯০৯ - মৃত্যু:- ২০ জুন ১৯৩৪                  পরাধীন ভারতে এমন একটি পরিবার ছিল বারাণসীতে, একজন নয় দুজন নয় তিনজন নয় পুরো ৮ ভাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মনীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার তিন (৩) ভাই জীবনধন বন্দ্যোপাধ্যায়, ফরিন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমিও বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের সশস্ত্র সংগ্রামের বিপ্লবী ছিলেন ও তাদের জেল হয়। তার চতুর্থ (৪) ভাই প্রভাসচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবীদের জন্য গুপ্তচরের কাজ করেন। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গী ছিলেন। এলাহাবাদে গান্ধী আশ্রমের (পোশাক সম্পর্কিত) প্রথম পরিচালক ছিলেন।                  মনীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর পঞ্চম (৫) ভাই ভূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তার মহিলা বিপ্লবী কর্মী সরোজিনী নাইডুর সাথে স্বাধীনতার পরেও কারাগারে ছিলেন। ষষ্ঠ (৬) ও সপ্তম (৭) ভাই একই দিনে একই সময় অন্য অন্য জায়গায় পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হন। মোহিতকে মীরাট কারাগারে রাখা হয...
Image
  অজয়কুমার ঘোষ  জন্ম:- ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ - মৃত্যু:- ১৩ জানুয়ারি ১৯৬২                    অজয় ঘোষ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন বাঙালি বিপ্লবী ছিলেন। তিনি ছিলেন শহীদ ভগৎ সিং এর অন্যতম সহযোগী। পরবর্তীতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একজন পলিটব্যুরো সদস্য ও অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন।হিন্দুস্থান সোশালিস্ট রিপাবলিকান এসোসিয়েশন এর সক্রিয় সদস্য ও ১৯২৮ সালে ভগৎ সিং, শুখদেব ও রাজগুরুর সঙ্গে জেলে যান। তাকে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী হয়ে বন্দি জিবন কাটাতে হয়।                    বিপ্লবী অজয়কুমার ঘোষের জন্ম হয়েছিল ২০ ই ফেব্রয়ারি ১৯০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়। আমরা অনেকেই জানি অজয় নামে একটি নদী আছে। তারই নাম ধরে পিতা ছেলের নাম রাখেন অজয়। তার পিতার নাম ছিল শচীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি কানপুরের একজন চিকিৎসক ছিলেন, অজয়কুমার ঘোষের ছোটবেলা অতিবাহিত হয় সেখানেই। তার মায়ের নাম ছিল সুধানশুবালা দেবী। অজয়কুমার ঘোষ প্রায় চার ভাই বোন ছিলেন। তার প্রথম শিক্ষা হয় কানপুরে ও পরে এলাহাবাদ বিশ্ব...